Saturday, November 30, 2019

গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান বাড়ছে নারী উদ্যোক্তাদের


গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান বাড়ছে নারী উদ্যোক্তাদের
গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান বাড়ছে নারী উদ্যোক্তাদের। শহরের পাশাপাশি এখন গ্রামেও বাড়ছে নারী উদ্যোক্তা। গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, গ্রামীণ পরিবহন ও যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হওয়ায় স্বল্প আকারে হলেও বাড়ছে নারী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ পরিবারগুলোর আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াতে অকৃষি খাতের অবদানও বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।এ প্রসঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিমা আহমাদ এমপি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকার গত ১০ বছরে সাফল্যের সঙ্গে গ্রাম ও শহরে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ঘাটতি পূরণ হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে নারী ও নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। এই বৃদ্ধির হার শহরের তুলনায় গ্রামে অনেক বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূলধারার কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারীর অবদান বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১ কোটি ৬৮ লাখ নারী কৃষি, শিল্প ও সেবা অর্থনীতির বৃহত্তর এই তিন খাতে কাজ করছেন। বর্তমানে জিডিপিতে নারীর অবদান ২০ শতাংশের কিছুটা বেশি। কিন্তু বাস্তবে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারীর অবদান স্বীকার করলে এই হার দাঁড়ায় ৪০ শতাংশের ঊর্ধ্বে। বর্তমানে কৃষি খাতে নিয়োজিত আছেন ৯০ লাখ ১১ হাজার নারী। গত এক যুগে বাংলাদেশে কৃষির নারীকরণ হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার মতোই দেশের কৃষি খাত বা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। গত ১০ বছরে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে ১০৮ শতাংশ। আর পুরুষের অংশগ্রহণ কমেছে দুই শতাংশ। খাদ্যনীতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৯০ শতাংশ বাড়িতে মুরগি পালন নিয়ন্ত্রণ করেন নারী। ছাগল ও গরু পালনে নারীদের নিয়ন্ত্রণ ৫৫ শতাংশ। এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) পরিচালিত ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত ২০১৭’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ২০০৯ সালে শিক্ষিত ২০ শতাংশ নারী ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে তা বেড়ে ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৮৬ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাই বিবাহিত। তাদের ৬৫ শতাংশেরই আবার পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। ৭৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তার বয়স ৩১ থেকে ৫০ বছর। তরুণ নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা মাত্র ১৩ শতাংশ (২১ থেকে ৩০ বছর)। শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর।
ঋণ প্রাপ্তি, সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধকতায় অবিবাহিত নারীরা এখনো উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি হতে পারছেন না। ব্যবসা করার ক্ষেত্রে ৭৭ শতাংশ নারী এখন আর পরিবার থেকে কোনো বাধা পান না। ৭ শতাংশ নারী এখনো পরিবার থেকে বাধা পান। ওই গবেষণায় ৫ শতাংশ নারীর পরিবার থেকে কোনো অর্থনৈতিক সাহায্য না পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে উইমেন এন্টরাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) সভাপতি নাসরিন ফাতিমা আউয়াল মিন্টু বলেন, নারী উদ্যোক্তারা শত বাধা পেরিয়ে ব্যবসায় নামছেন। গ্রামের নারীরা এটা আরও বেশি করছেন। গ্রামের নারীরা শিগগিরই ক্ষুদ্র ঋণও পান না তাদের ব্যবসার জন্য। যেটুকু অর্থায়ন পান, তাও চড়া সুদে নিয়ে ব্যবসা করতে হয় গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের। তথ্যমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের ইশতেহারে নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে গ্রামকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Monday, November 18, 2019

নতুন তিন ক্যামেরার ফোন বাজারে




nmjfV
নিজেদের প্রথম নচ ডিসপ্লের স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিলো দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। যার মডেল প্রিমো এসসেভেন। এতে রয়েছে এআই সমৃদ্ধ ট্রিপল ক্যামেরা, শক্তিশালী অক্টাকোর প্রসেসর ও ব্যাটারিসহ আকর্ষণীয় সব ফিচার। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বাজারে আসার কথা থাকলেও, এখন ফোনটির প্রি-অর্ডার নেয়া হচ্ছে। প্রি-অর্ডারে থাকছে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক।

ওয়ালটন সেল্যুলার ফোন বিক্রয় বিভাগের প্রধান আসিফুর রহমান খান জানান, ফোরজি নেটওয়ার্ক সাপোর্টসহ অত্যাধুনিক সব ফিচারসমৃদ্ধ প্রিমো এসসেভেন-এর দাম ধরা হয়েছে মাত্র ১৫,৯৯৯ টাকা। বুধবার (১০ জুলাই, ২০১৯) থেকে দেশের যে-কোনো ওয়ালটন প্লাজা এবং ব্র্যান্ড আউটলেটে ফোনটির প্রি অর্ডার বা আগাম ফরমায়েশ দেয়া যাবে। যারা প্রি অর্ডার দেবেন, তাদের জন্য থাকছে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক।

ওয়ালটন সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ফোনটিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৬.২৬ ইঞ্চির ১৯:৯ রেশিওর নচ ডিসপ্লে। এইচডি প্লাস পর্দার রেজ্যুলেশন ১৫২০ বাই ৭২০ পিক্সেল।
আইপিএস প্রযুক্তির স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ধূলা ও আঁচররোধী ২.৫ডি কার্ভড গ্লাস। এটি অ্যান্ড্রয়েড ৯.০ পাই অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত। এতে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যন্ত স্লিম (১২ ন্যানোমিটার) ৬৪ বিটের ২.০ গিগাহার্জ গতির অক্টাকোর প্রসেসর। সঙ্গে রয়েছে ৩ জিবি ডিডিআর৪ র‌্যাম এবং পাওয়ার ভিআর জিই৮৩২০ গ্রাফিক্স। ফোনটির অভ্যন্তরীণ মেমোরি ৩২ গিগাবাইটের। যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ২৫৬ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

ফোনটির পেছনে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত এফ ২.০ অ্যাপারচার সমৃদ্ধ পিডিএএফ প্রযুক্তির ১২, ১৩ এবং ২ মেগাপিক্সেলের ট্রিপল ক্যামেরা। এর ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় রয়েছে সনি আইএমএক্স৪৮৬ সেন্সর। এতে অল্প আলোতে চমৎকার ছবি তোলা যাবে। ১৩ মেগাপিক্সেল আরেকটি ক্যামেরা থাকায় ১২০ ডিগ্রি সুপার ওয়াইড-অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলা যাবে। আর ২ মেগাপিক্সেলের তৃতীয় ক্যামেরায় রয়েছে ডেপথ সেন্সর। যা দেবে পোটরেইড মোডে অসাধারণ ছবি তোলার সুবিধা। আকর্ষণীয় সেলফির জন্য সামনে রয়েছে পিডিএএফ প্রযুক্তির ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। যা অল্প আলোতেও দেবে নিখুঁত সেলফি। উভয় ক্যামেরায় ফুল এইচডি ভিডিও ধারণ করা যাবে। রয়েছে এআই মোড, এআই বিউটি, পোরট্রেইড মোড, স্লো-মোশন, টাইমস ল্যাপস, এইচডিআর, প্যানারোমা, নাইট মোড, ফেস ডিটেকশন, ডিজিটাল জুমসহ অসংখ্য আকর্ষণীয় ফিচার।

দুর্দান্ত পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য স্মার্টফোনটিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৯০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। কানেক্টিভিটি হিসেবে আছে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ভার্সন ৪, মাইক্রো ইউএসবি ভার্সন ২, ওয়ারলেস ডিসপ্লে, ল্যান হটস্পট, ওটিএ এবং ওটিজি। সেন্সর হিসেবে আছে প্রোক্সিমিটি, ম্যাগনেটিক ফিল্ড (কম্পাস), অরিয়েন্টেশন, স্টেপ ডিটেক্টর, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, হল সেন্সর, স্মার্ট কভার সেন্সর ইত্যাদি।

৮.২ মিমি স্লিম হ্যান্ডসেটটি ব্লু এবং সি গ্রিন - এই দুটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে আসবে। দেশে তৈরি এই স্মার্টফোনে রয়েছে বিশেষ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা। স্মার্টফোন কেনার ৩০ দিনের মধ্যে ত্রুটি ধরা পড়লে ফোনটি পাল্টে ক্রেতাকে নতুন আরেকটি ফোন দেয়া হবে। এছাড়াও, ১০১ দিনের মধ্যে প্রায়োরিটি বেসিসে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্রেতা বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। তাছাড়া, স্মার্টফোনে এক বছরের এবং ব্যাটারি ও চার্জারে ছয় মাসের বিক্রয়োত্তর সেবা তো থাকছেই।
Manab Jomin

চামড়া শিল্পে সম্ভাবনা বাড়ছে


চামড়া শিল্প
চামড়া শিল্প। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বব্যাপী চামড়ার বাজারে বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে তুলে ধরতে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ঢাকায় হয়ে গেল তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদারগুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো (ব্লিস) ২০১৯।
ব্লিসের ৩য় সংস্করণের এবারের মূল বিষয় ছিল ‘ফিউচার প্রুফ সোর্সিং’। এবারের প্রদর্শনীতে ফিউচার প্রুফ সোর্সিং সমাধান হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গল্প, প্রযুক্তি ও অভিযোজনযোগ্যতা, স্থায়িত্বের দিকে অগ্রযাত্রা এবং বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধা- এই চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এবারের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।
এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই শিল্প খাতের ক্রেতা, বিশ্ববাজারের খুচরা ক্রেতা এবং আন্তর্জাতিক সোর্সিং এজেন্টদের একই ছাদের নিচে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। ফলে তারা সরাসরি স্থানীয় উৎপাদনকারী ও রফতানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন এবং বাংলাদেশকে এ খাতের একটি সোর্সিং হাব হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
৩০ অক্টোবর এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময়ে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের ম্যাচিং গ্র্যান্ট উদ্বোধন করেন। এর পাশাপাশি আইএফসির অর্থায়নে বাংলাদেশ লেদার সেক্টরের জন্য তৈরিকৃত কমপ্লায়েন্সের জন্য ই-মডিউলও উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ডস ও ক্রেতাদের জন্য ফিউচার প্রুফ সোর্সিংয়ের গন্তব্য হতে পারে, যদি সরকার ও নীতিনির্ধারকরা এ খাতের অপার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবিক প্রয়োগযোগ্য সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করেন। এ প্রদর্শনীতে ৩০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ, মধ্য-ব্যবস্থাপনায় নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন, ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগসমূহ নিয়ে প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিনটি ব্রেকআউট সেশন পরিচালনা করা হয়।
ব্রেকআউট সেশনগুলোর প্যানেল ডিসকাশনে ছিলেন এলএফএমইএবি ও পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডের সভাপতি সায়ফুল ইসলাম, ইন্ডিয়ান শু ফেডারেশনের সভাপতি ভি. মুথুকুমারান, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। এছাড়াও প্যানেল ডিসকাশনে এ খাতের সংশ্লিষ্ট আরও অনেক প্রতিধিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন মূল্য, ক্রমবর্ধমান কমপ্লায়েন্স প্র্যাকটিস, দক্ষ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, ইউরোপ ও চীনা বাজারে বাণিজ্য অগ্রাধিকারের কারণে বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় শিল্প স্থাপনের তুলনায় বাংলাদেশ সারা বিশ্বের চামড়ার বাজারে প্রতিযোগিতামূলক জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
এ প্রদর্শনীটি বাংলাদেশের লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদারগুডস শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে তথ্য, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানে সহায়তা করেছে। প্রদর্শনীতে ছিল বাংলাদেশ থেকে উৎপাদিত আধুনিক ফ্যাশনের জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের সমাহার।
জেন্টস, লেডিস ও কিডস সুজ, চামড়ার তৈরি ব্যাগ, মানিব্যাগ, সুটকেস, ট্রাভেল ব্যাগ, বেল্ট, গ্লোভস ছাড়াও আরও বৈচিত্র্যময় পণ্যসামগ্রি প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, আন্তর্জাতিক ক্রেতাবৃন্দ, ডিজাইনার, ফ্যাশন এক্সপার্ট, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সোর্সিং এজেন্ট, রিটেইল চেইন, পরিবেশক, সম্ভাব্য বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা।
বাংলাদেশে তৈরি ও উৎপাদিত রফতানিমুখী পণ্যসমূহ প্রদর্শন করার জন্য ১০টি প্যাভেলিয়ন ও ৩০টি বুথ ছিল। পণ্য প্রদর্শন করেছেন দেশের স্বনামধন্য স্থানীয় ও বৈদেশিক পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।
পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত এক্সপোর্ট কম্পেটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের সহায়তায় ১০টি এসএমই প্রতিষ্ঠান এবারের প্রদর্শনীতে পণ্য প্রদর্শন করেছে। একটি নতুন ধরনের সোর্সিং সল্যুয়েশন অভিজ্ঞতা প্রদান, নেটওয়ার্কিং ইভেন্টস এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়াতে সরাসরি ফ্যাক্টরি ভিজিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা খাতের সম্ভাবনা, ব্লিসে অংশগ্রহণকারী এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আইএফসির সহায়তায় মাসব্যাপী প্রচারণা এবং ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে।
লেদারগুডস এবং পাদুকা শিল্পে অধিক শ্রম ও শক্তির প্রয়োজন। এ খাতে বর্তমানে ৬০ শতাংশেরও বেশি মহিলা কর্মী রয়েছে। বর্তমানে এই শিল্পে প্রায় ২ লাখ কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েক লাখ কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ২২০টি ট্যানারি, ৩,৫০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান, প্রায় ৯০টি বড় সংস্থা এবং ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে চামড়া শিল্প গঠিত। দেশে বছরে ৩১০ মিলিয়ন বর্গফুট চামড়ার কাঁচামাল উৎপাদিত হয়। দেশের প্রায় ৭৬ শতাংশ ট্যানারি রফতানিমুখী।
বর্তমানে আমাদের রফতানি আয় ১ বিলিয়নের বেশি এবং এটি আরএমজির পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হিসেবে তৈরি হয়েছে। গত এক দশকে দেশের চামড়া শিল্পের রফতানি ৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ উৎপাদনে বিশ্বে ৬ষ্ঠ স্থান এবং বিশ্বব্যাপী রফতানিতে ২০তম স্থান অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে আরও ১০টি দেশে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চামড়া শিল্পে রফতানি আয় হয়েছে রেকর্ড ১০১৯.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে অন্যান্য পাদুকা (চামড়াবিহীন) শিল্পের রফতানি আয় ১১.২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২২ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করা সম্ভব হবে।
গিয়াস উদ্দিন : চামড়া বিশেষজ্ঞ
Jugantor

কাতারে তরুণ উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা


কাতারে তরুণ উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা
‘স্বপ্ন দেখুন সাহস করুন, শুরু করুন এবং লেগে থাকুন সফলতা আসবেই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ভিত্তিক একটি গ্রুপ সংগঠন নিজের বলার মত একটা গল্পের তৃতীয় মিটআপ গত শুক্রবার কাতারের রাজধানী দোহারের নিউ জামান হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাতারের কান্ট্রি অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ শওকত আলীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নুজুম গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর চৌধুরী হাসান মাহমুদ। সি এম হাসানের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন লাক্সারিয়াস ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন ও নুজুম গ্রুপের অ্যাডমিন ডিরেক্টর হাফিজুর রহমান নাহিদ।
শুরুতে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুভ সূচনা ও কোরআন তেলাওয়াত করেন নূরে আলম জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানে টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন গ্রুপের ফাউন্ডার ইকবাল বাহার জাহিদ। বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ আল আমিন হোসেন, সুমন ঘোষ, কামরুল হাসান, আব্দুল মোতালেব, আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুস শক্কুর, সাইফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, মুবিন ও লিপি রহমানসহ কাতারের সকল সদস্য। এসময় প্রধান অতিথি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নিজের ব্যক্তিত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিজের বলার মত একটা গল্প বিশাল বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যে ভাল কাজ হয় এটি তার বাস্তব উদাহরণ।
বিডি-প্রতিদিন/শফিক